সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ সাভারের আশুলিয়ায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত চাঁদাবাজ যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম মন্ডলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। এসময় তাদের কাছ থেকে ককটেল সদৃশ বস্তুসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রুবেল হাওলাদার। এর আগে, ভোর রাতে আশুলিয়ার বলিভদ্র তালপট্টি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- আশুলিয়ার তালপট্টি এলাকার সায়েদ আলী মন্ডলের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল (৪৫)। তিনি ঢাকা জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক। তার দুই সহযোগীর মধ্যে রয়েছে বগুড়া জেলার সদর থানার পাকা কাঞ্চনপুর এলাকার মৃত কবির হোসেনের ছেলে স্বপন ওরফে চাপাতি স্বপন (৪০) ও নওগাঁ জেলার বানি নগর থানার কাশিমপুর এলাকার রেজ্জাক সর্দারের ছেলে ফারজুল ( ৩৮)।
যৌথ বাহিনী জানায়, ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে আশুলিয়ার তালপট্টি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের নিকট থেকে ১৬টি রামদা, ৮টি চাপাতি, ১৫টি ছোট চাকু, ২টি দা, ৪ টি মোবাইল, ১৯টি কাঠের লাঠি ও ১২টি ককটেল উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত দেশীয় অস্ত্র সহ তাদেরকে আশুলিয়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
জানা গেছে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল লতিফ মন্ডলের চাঁদাবাজীর সা¤্রাজ্য টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব নেয় ভাতিজা যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল। এরপর শক্ত হাতে হাল ধরে ডিইপিজেড থেকে বলিভদ্র বাজার পর্যন্ত ফুটপাতের দোকান থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার চাঁদাবাজি, মামলা বাণিজ্য, দখল বাণিজ্য ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেন। জাহাঙ্গীর মন্ডলের রয়েছে বিশাল এক কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী বাহিনী। চাঁদার টাকা উত্তোলন ও ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে তিনি বিভিন্ন বাহিনী তৈরী করেছেন। বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অন্যতম সদস্যরা হলেন- স্বপন (ক্যাডার স্বপন) সোহেল রানা (জুতা সোহেল), শফিক (ঝামেলা শফিক), হাসিব (হকার হাসিব) ইখতিয়ার, আবু কালাম (ভন্ড কালাম) টিপু (বাংলা টিপু), জালাল, জুয়েল, মহরমসহ আরও অনেকে। গত কয়েক মাসে প্রায় কোটি টাকা চাঁদাবাজীর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন, যুবদল নেতা জাহাঙ্গীর মন্ডলের বিরুদ্ধে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতার মালিকানাধীন একটি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, জমিদখলসহ অসখ্য অপরাধমূলক কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। তার কথামতো চাঁদা পরিশোধ করা না হলে তুলে নিয়ে মারধর এবং পুলিশ ডেকে আওয়ামী লীগ কর্মী বানিয়ে থানায় সোপর্দ করা যেন নিত্যদিনের কাজ।
এদিকে জাহাঙ্গীর মন্ডল গ্রেপ্তারের পর এলাকায় আনন্দ মিছিল করেছে স্থানীয় গ্রামবাসীরা। ভুক্তভোগী লোকজন এসময় জাহাঙ্গীর মন্ডলের দৃষ্টান্তমূক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে জাহাঙ্গীর মন্ডলের কর্মী সমর্থকেরা তার মুক্তির দাবিতে আশুলিয়া থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেছে।
আশুলিয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রুবেল হাওলাদার জানান, বৃহস্পতিবার ভোর রাতে জাহাঙ্গীর মন্ডলসহ তিনজনকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র হস্তান্তর করেন যৌথবাহিনী। যার মধ্যে ককটেল সদৃশ বস্তু ররেছে। এঘটনায় তাদের বিরদ্ধে মামলা দায়েরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এই ওয়েব সাইটের কোন সংবাদ অনুমতি ব্যাতিত কপি করা যাবেনা। সর্ব স্বত্ত্ব সংরক্ষিত।
এই ওয়েব সাইটের কোন সংবাদ অনুমতি ব্যাতিত কপি করা যাবেনা। সর্ব স্বত্ত্ব সংরক্ষিত।