সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ সাভারে হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃক মহাসড়কে চলাচলকারী অটোরিক্সা আটক করে রেকার বিলের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রতিবাদে এবং মহাসড়ক ব্যবহার করে রাস্তা পারাপারের সুযোগ চেয়ে বিক্ষোভ করেছে ব্যাটারিচালিকত অটোরিক্সা চালকেরা। এসময় তারা প্রায় দুই ঘন্টা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখলে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে করে শত শত যানবাহনে আটকে পড়া যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহতে হয়। পরে থানা পুলিশ ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের আশ্বাসে অটোরিক্সা চালকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলে ধীরে ধীরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিত হতে থাকে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০ টার থেকে সাড়ে ১২ টা পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাকিজা এলাকার শহীদ ইয়ামিন চত্বরে এই বিক্ষোভ এবং মহাসড়ক অবরোধের ঘটনা ঘটেছে।
বিক্ষোদ্ধ অটোরিক্সা চালকেরা জানায়, আমরা গরিব মানুষ রিক্সা চালিয়ে খাই। এরপরও আমরা সরকার এবং দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মহাসড়কে অটোরিক্সা চালাইনা। কিন্তু আমরা যখন ব্যাংককলোনী থেকে মজিদপুর, রাজাশন কিংবা আনন্দপুর এবং গেন্ডা এলাকায় যাবো তখন আমাদেরকে মহাসড়ক ব্যবহার করে পারাপার হতে হয়। এই সুযোগে পুলিশ পাকিজার সামনের ইউটানে আটকে রেখে রেকার বিলের নামে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। আমাদেরওে সংসার এবং স্ত্রী সন্তান আছে। সারাদিনে এক হাজার টাকা কামাই করলে ৫শ টাকা ভাড়া দিয়ে বাকী টাকায় কোনমতো সংসার চালাই।
অটোরিক্সা চালক শাহেদ আলী বলেন, হাইওয়ে পুলিশ মাঝে মধ্যেই পাকিজার সামনে আমাদের গাড়ি আটকে রেকার বিল হিসেবে ২৬০০ টাকা করে আদায় করে। কিন্তু আমাদেরকে রিসিভ দেয় মাত্র ৫ শ টাকার, বাকী টাকা তারা ভাগ করে নিয়ে যায়। অন্যদিকে ট্রাফিক পুলিশও গাড়ি ধরে, তারা ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকাও রেকার বিল আদায় করে। এই বিল দিতে হলে আমার এক সপ্তাহের আয়ের টাকায় সম্ভব হয়না।

অটোরিক্সা চালক শাহালম মিয়া বলেন, আজকে একজন অটোরিক্সা চালককে ইউটার্ন পার হওয়ার কারনে হাইওয়ে পুলিশ তাকে মারধর করেছে। এঘটনার প্রতিবাদে আমরা মহাসড়ক অবরোধ করেছি। তারা অটো ধরেই রেকার বিলের নামে চাঁদা দাবি করে কিন্তু তার জন্য কোন রশিদ দেয়না। আমাদেরও সংসার আছে। এখনও গত মাসের ঘরভাড়া দিতে পারিনাই। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছি। এই অবস্থায় আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ায় রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি।
অপর চালম সুমন মিয়া বলেন, পুলিশ যেভাবে খুশি যখন খুশি আমাদের গাড়ি আটকে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছে। আমরাওতো এই দেশের নাগরিক, আমরা কি করে খাবো। আমাদের মহাসড়ক ব্যবহার করে পারাপারের ব্যবস্থা করতে হবে । এভাবে অন্যায় ভাবে অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধসহ ফুটপাত উচ্ছেদ করে আমাদের চলাচল নিবিঘ্ন করতে হবে।
এদিকে দীর্ঘ সময় মহাড়ক অবরোধ করে রাখায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলে শ্রমিকদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে তাদের দাবিকে যৌক্তিক হলে মেনে নেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের রেডিওকলোনী ইউটার্ন থেকে গেন্ডা এবং উলাইলের মাঝামাঝি ইউটার্ন পর্যন্ত মহাসড়কটি অটোরিক্সা চালকদের জন্য আপাতত চলাচলের জন্য উন্মক্ত রাখার ঘোষনা দেয়া হলে অটোরিক্সা চালকরা তাদের অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। তবে এর বাহিরে মহাসড়কের অটোরিক্সা চলাচল করলে পুলিশ সেগুলো ডাম্পিং করে দিবে বলেও ঘোষনা করে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, অটোরিক্সা চালকরা কিছু দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে। আপতত তাদেরকে কিছুটা সুবিধা দিয়ে বুঝিয়ে সড়ক থকে সড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এই ওয়েব সাইটের কোন সংবাদ অনুমতি ব্যাতিত কপি করা যাবেনা। সর্ব স্বত্ত্ব সংরক্ষিত।
এই ওয়েব সাইটের কোন সংবাদ অনুমতি ব্যাতিত কপি করা যাবেনা। সর্ব স্বত্ত্ব সংরক্ষিত।