সাভারে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে ওএমএস ডিলারের কাছে চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ৩

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি: সাভারের চাপাইন এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে ওএমএস ডিলারের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তিন কথিত সাংবাদিককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি মাইক্রোফোন ও কথিত ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়পত্র জব্দ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় জড়িত আরও একজন পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে সাভার সদর ইউনিয়নের চাপাইন এলাকার জাহাঙ্গীর এন্টারপ্রাইজ নামের একটি দোকানে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী ওএমএস ডিলার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার বেড়াবালা গ্রামের মো. জাহিদুল ইসলামের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (৩৯), একই জেলার গাবতলী থানার সুখানপুকুর গ্রামের মৃত সলিমুদ্দিনের ছেলে মঞ্জুরুল হক মঞ্জু (৫২) এবং শরীয়তপুর জেলার ড্যামুডা থানার চরমালগাঁও বিশ্বাসকান্দি গ্রামের আঃ মজিদ বেপারীর ছেলে এফ রহমান রূপক (৪৮)। এ সময় পিন্টু (৪৮) নামে আরও একজন পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার বাড়ি চাঁদপুর সদর থানার বহরিয়া বাজার রঘুনাথপুর এলাকায়।

ছবি তুলে ডিলারকে পাশে ডেকে চাঁদা দাবি

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে চাপাইন এলাকার জাহাঙ্গীর এন্টারপ্রাইজে ওএমএসের চাল ও আটা নিতে স্থানীয় লোকজন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন। তারা ওএমএসের কার্যক্রমের ছবি তোলার পর ডিলার জাহাঙ্গীর হোসেনকে দোকানের পাশে ডেকে নেন।

সেখানে তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন ডিলার। দাবিকৃত টাকা না দিলে ওএমএস কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হলে তারা ওই ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে স্থানীয়রা তিনজনকে আটক করে মারধর করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা আরও একজন কৌশলে পালিয়ে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

পরে খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক তিনজনকে স্থানীয়দের কাছ থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

বিভিন্ন পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ

ভুক্তভোগী ডিলার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিরা সাভারের বিভিন্ন এলাকায় কখনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কখনো সাংবাদিক আবার কখনো সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা দাবি করতেন।

তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন নামী-বেনামী পত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক পরিচয়পত্র পাওয়া গেছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের বক্তব্য

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্বাস উদ্দিন বলেন, স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে চাপাইন এলাকা থেকে তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!