মে’র পর জুলাইয়েও শ্রেষ্ঠ আশুলিয়া থানার ওসি তরিকুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা জেলার মাসিক অপরাধ সভায় জুলাই ২০২৬ মাসের পারফরম্যান্স মূল্যায়নে জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা। এর আগে মে মাসের পারফরম্যান্স মূল্যায়নেও তিনি একই স্বীকৃতি পেয়েছিলেন। একই বছরে দুই দফায় জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হওয়ায় আশুলিয়া থানার কার্যক্রম ও নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ঢাকা জেলার মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জুলাই মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী অভিযান, মামলা নিষ্পত্তি, গ্রেপ্তার, উদ্ধার এবং জননিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সূচকে থানা পুলিশের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এসব পারফরম্যান্স সূচকে আশুলিয়া থানার সামগ্রিক কার্যক্রম বিবেচনায় নিয়ে ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলামকে জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত করা হয়।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আশুলিয়া থানা এলাকায় মাদক, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, কিশোর অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা, মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে থানা পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। এসব কার্যক্রমের সমন্বয় ও নেতৃত্বের বিষয়টিও পারফরম্যান্স মূল্যায়নে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে আশুলিয়ার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও শিল্পাঞ্চলভিত্তিক একটি থানায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের চ্যালেঞ্জও কম নয়। বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস, শিল্পকারখানা, শ্রমিকদের চলাচল এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতির কারণে এ এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে নিয়মিতভাবে বহুমুখী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হয়। ফলে ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স ধরে রাখার বিষয়টি পুলিশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে মে-২০২৬ মাসের পারফরম্যান্স মূল্যায়নেও ওসি তরিকুল ইসলাম ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ নির্বাচিত হন। মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে পুনরায় একই স্বীকৃতি পাওয়ায় তার নেতৃত্বাধীন আশুলিয়া থানার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশংসা করছেন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, এই অর্জন কোনো একক ব্যক্তির নয়। আশুলিয়া থানার সব পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পেশাদারিত্ব এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনার ফলেই এ স্বীকৃতি অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একটি থানার পারফরম্যান্স শুধু গ্রেপ্তার বা উদ্ধার অভিযানের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়; অপরাধ প্রতিরোধ, দ্রুত সেবা, তদন্তের মান, জনসম্পৃক্ততা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সামগ্রিক চিত্রও এর সঙ্গে জড়িত। সেই বিবেচনায় পরপর দুই দফায় জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি আশুলিয়া থানার কার্যক্রমের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। তবে এই অর্জন ধরে রাখতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি, অপরাধ প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ এবং পুলিশের সঙ্গে জনগণের আস্থার সম্পর্ক আরও জোরদার করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!