সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে বিএনপি নেতার পরিবারের মানববন্ধন

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ সাভারে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন শেষে রেজাল্ট নিয়ে বিএনপি সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থীর বাসায় যাওয়ার পথে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। এঘটনায় হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সন্ত্রাসীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী নেতা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। শনিবার সন্ধ্যায় সাভার পৌরসভার ভাটপাড়া এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেন তারা।

ভুক্তভোগী বিএনপি নেতার নাম মোঃ আজিজুল হাকিম (৪৪)। সে সাভার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ড ভাটপাড়া এলাকার মোঃ সেকিম আলীর ছেলে এবং পৌর যুবদলের ১ নং ওয়ার্ড সহ-সভাপতি। এছাড়াও সন্ত্রাসীরা এসময় জাহাঙ্গীর আলম নামে তার সাথে থাকা আরও এক সহকর্মীকেও মারধর করেছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী আজিজুল হাকিম বাদি হয়ে সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

হামলা ও মারধরের ঘটনায় অভিযুক্তরা হলো- সাভার পৌরসভার ভাটপাড়া এলাকার রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ সাজু (৩৫), সাদেকের ছেলে মিলন (৩০) এবং জামসিং এলাকার মুরাদ (৩৭)।

আয়োজিত মানববন্ধন থেকে ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ী আজিজুল হাকিম বলেন, আমি ১২ তারিখের নির্বাচনে সাভার পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের ছায়াবিথী এলাকার শহীদ মজনু একাডেমী ভোটকেন্দ্রে বিএনপি’র প্রার্থী ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর পোলিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করি। ভোটগ্রহন শেষে ভোট গণনা করে রেজাল্ট সিট নিয়ে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য বাবু ভাইয়ের বাসায় যাওয়ার পথে সন্ত্রাসী মিলন, সাজু ও মুরাদের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার উপর হামলা চালায়।

তিনি আরও বলেন, প্রথমে সন্ত্রাসীরা পিছন থেকে আমার মাথায় কুপ দিলে আমি মাটিতে পড়ে যাই। এসময় সাথে থাকা জাহাঙ্গীর আলম আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তাকে এবং আমাকে এলোপাথারি পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। এঘটনায় সুস্থ্য হয়ে আমি শনিবার সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছি।

ভুক্তভোগীর ভাই রায়হান আহমেদ বলেন, আমার ভাইয়ের উপর হামলাকারীরা এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী। তাদের মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় এর আগেও আমার ভাইকে হুমিক প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার নির্বাচনী দায়িত্ব পালন শেষে সন্ত্রাসীরা আমার ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথারিভাবে কুপিয়ে তার সাথে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইলফোন নিয়ে যায়। বর্তমানে আমার সন্ত্রাসীদের ভয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি। দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা না হলে তারা আবারও হামলা চালিয়ে লোকজনকে আহত করতে পারে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, হামলাকারী মিলন এর আগেও হত্যা মামলায় জেল খাটে। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়া তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে এলাকার মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায়না। প্রশাসন এবং নবনির্বাচিত এমপি’র কাছে আমাদের দাবি এসব সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক।

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাখাওয়াত ইমতিয়াজ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!