
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ সাভারে বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে জাহানারা অ্যাপারেলস নামক একটি তৈরী পোশাক কারখানার দুই শতাধিক শ্রমিক। এছাড়া আরও একটি কারখানার কয়েক’শ শ্রমিকরা ছাটাইয়ের প্রতিবাদে এবং বন্ধ কারখানা খুলে দেয়ার দাবি জানিয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে। এসময় ভুক্তভোগী শ্রমিকরা একটি লিখিত প্রস্তাবনাও দিয়েছেন ইউএনও’র কাছে। রবিবার বিকেলে সাভার পৌরসভার পশ্চিম রাজাশন মহল্লার এমট্রানেট গ্রুপের শ্রমিকরা ছাটাইকৃত শ্রমিকদের চাকুরীতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে ইউএনও’র কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন।
অন্যদিকে রবিবার সন্ধ্যায় সাভারের আক্রান এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে সিটি ইউনিভার্সিটির পাশর্^বর্তী একটি শাখা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে জাহানারা অ্যাপারেলস কারখানার দুই শতাধিক। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ এবং থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছলেও শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি। সড়ক অবরোধকারী শ্রমিকরা জানায়, আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা সড়কেই অবস্থান করবো। মালিক পক্ষ বারবার আমাদের বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য সময় দিলেও কোন তারিখেই বেতন পরিশোধ করছেনা। শ্রমিকদের দুই মাসের বেতন বকেয়া
জাহানারা অ্যাপারেলস কারখানার সুইং অপারেটর মাসুদ রানা বলেন, আজকে আমাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার কথা। কিন্তু সকালে কারখানায় এসে গেট বন্ধ দেখতে পাই। গতকাল রাতেও আমরা কাজ করে গিয়েছি। আজ বেতন না দিয়েই কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ করে গাঁ ঢাকা দিয়েছে।
কারখানাটির নারী শ্রমিক আখি মনি বলেন, গত ১২ তারিখে আমাদের ডিসেম্বর মাসের বেতন দেয়ার কথা ছিলো। সেদিনও এসে কারখানা তালা মারা দেখতে পাই। এঘটনায় আমারা শিল্প পুলিশের এসপি’র কাছে গেলে আমাদেরকে দুই পরে যেতে বলেন। পরবর্তীতে ১৪ তারিখে আমরা আবারও সেখানে গেলে একটি সম্মেলন হয় এবং আজকে আমাদের বেতন পরিশোধের তারিখ দেয়া হয়। এর মধ্যে আমরা প্রতিদিনই কারখানায় আসছি এবং কাজ করছি। আজকে এসে দেখটি সবাই কারখানা বন্ধ করে পালিয়ে গেছে।
শ্রমিক নেতা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বকেয়ো বেতনের বিষয়ে আলোচনার জন্য আমরা মালিক পক্ষের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের মোবাইল বন্ধ থাকায় কথা বলতে পারছিনা। যে কারনে শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করছে।
সাভারের বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্য এসআই আলামিন বলেন, সড়ক অবরোধ করে শ্রমিক বিক্ষোভের কোন ঘটনা আমার জানা নাই। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, এমট্রানেট গ্রুপের বেশকিছু শ্রমিককে সাময়িক অব্যাহতি দিয়ে কারখানা বন্ধ ঘোষনা করেছে কর্তৃপক্ষ। এঘটনায় ওই কারখানার কয়েক’শ শ্রমিক আমার কার্যালয়ে এসেছিলো। আমি তাদের সাথে কথা বলে কারখানার মালিক পক্ষকে ডেকেছিলাম। শ্রমিক প্রতিনিধি এবং মালিক পক্ষের সাথে দীর্ঘক্ষন কথা বলেছি, উভয় পক্ষই কারখানা খোলার এবং কাজে ফিরতে আগ্রহী। এজন্য তাদেরকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি, এর মধ্যে তারা নিজেদের মধ্যে কথা বলে কিভাবে কারখানা চালু করা সেটি আমাকে জানাবে। অন্যথায় এবিষয়ে তাদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি।
