
অনলাইন ডেস্কঃ জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর অদূরে আশুলিয়ায় গুলি করে হত্যার পর ছয় লাশ পোড়ানোর মামলার বিচারের রায় হবে যে কোনোদিন। মামলার সবশেষ ধাপ যুক্তিতর্কের শুনানি নিয়ে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় অপেক্ষমান রাখে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রসিকিউশনপক্ষে সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলায় বিচারকাজ শুরু হয়। গত বছরের ২১ আগস্ট এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের বিরুদ্ধে ২৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উত্তরের সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেনের পক্ষে তার আইনজীবী মিরাজুল আলম ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ‘আরাফাতের কাছে কোনো অস্ত্র ছিলো না। সে আন্দোলনকারীদের হত্যাও করেনি।’ জবাবে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘লাশ পোড়াতে অস্ত্র লাগে না ‘ একপর্যায়ে মিরাজুল বলেন, ‘‘৫ আগস্ট সারা দেশের থানাগুলোতে অ্যাটাক হয়েছিল ‘দ্যাট ইজ দ্য সিস্টেমেটিক অ্যাটাক’।’’ তখন উপস্থিত প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘আপনি জুলাই আন্দোলনকে চ্যালেঞ্জ করছেন কিনা, ব্যাখ্যা দেন। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কেউ চ্যালেঞ্জ করেনি। এ সময় প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনকে আপনি চ্যালেঞ্জ করছেন, এটিই আপনার সাবমিশন কিনা।’ জবাবে মিরাজুল বলেন, ‘আমি নিজে জুলাইযোদ্ধা। আন্দোলনে ধানমন্ডিতে দায়িত্ব পালন করেছিলাম।’ তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘আপনি নিজের গল্প না বলে আর্গুমেন্ট করেন।’ পরে পুনরায় আর্গুমেন্ট শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মিরাজুল আলম।
আশুলিয়ার ঘটনার মামলায় ১৬ আসামির মধ্যে ৮ জন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। তারা হলেন, পুলিশের সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহিল কাফী, ঢাকা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তরের সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন, আশুলিয়া থানার সাবেক উপপরিদর্শক আবদুল মালেক, আরাফাত উদ্দীন, কামরুল হাসান ও শেখ আবজালুল হক এবং সাবেক কনস্টেবল মুকুল চোকদার।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ৮ আসামি এখনো পলাতক। আসামি আবজালুল হক ইতোমধ্যে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে এ মামলায় রাজসাক্ষী (অ্যাপ্রুভার) হিসেবে সাক্ষ্য দেন।
মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট বেলা তিনটার দিকে আশুলিয়া থানার সামনে পাঁচজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর বাইরে আরও একজন গুলিতে গুরুতর আহত হন।
একজনকে জীবিত ও পাঁচজনকে মৃত অবস্থায় প্রথমে একটি ভ্যানে তোলা হয়। সেখান থেকে পুলিশের একটি গাড়িতে তোলে পুলিশ। পুলিশের গাড়িতে এই ছয়জনকে (যার মধ্যে একজন জীবিত) আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় পুলিশ। এ সময় যারা শহীদ হয়েছেন, তারা হলেন- সাজ্জাদ হোসেন (সজল), আস সাবুর, তানজীল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বুসতামি ও আবুল হোসেন।
