
সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ সাভারে আশুলিয়া মডেল টাউনের (আমিন মোহাম্মদ হাউজিং) ভিতর থেকে মিলন (১৫) নামে এক কিশোরের খুলিসহ ৩৮ টুকরো কঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনায় হত্যাকান্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনসহ হত্যার সাথে জড়িত তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সোমবার দুপুুুরে রাজধানীর উত্তরায় ঢাকা জেলা পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই এর পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
এর আগে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের আক্রান বাজার ও গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে ভিকটিমের লুণ্ঠিত অটোরিক্সাটি এবং আরও একটি ছিনতাইকৃত অটোরিক্সাটি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার গোয়াচালা গ্রামের মজিবুর রহমানের ছেলে মোঃ রনি মিয়া (২৪), একই থানার উত্তর দাড়িয়াপুর গ্রামের মৃত ওসির উদ্দিনের ছেলে মোঃ আবুল কালাম (৫২) এবং পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার মাস্টারপাড়া গ্রামের নবাব আলীর ছেলে মোঃ এরশাদ আলী (৩৪)। এদের মধ্যে রনিকে সাভারের আক্রান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানাধীন টানসুত্রাপুর এলাকা হতে মোঃ এরশাদ আলী এবং উত্তর দাড়িয়াপুর এলাকা হতে মোঃ আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের তারা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ জানান, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় মিলন। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর ১৮ নভেম্বর আশুলিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা করেন মিলনের মা জোসনা বেগম। এর কিছুদিন পর ১ ডিসেম্বর আশুলিয়া মডেল টাউনের একটি কাঁশবন থেকে অজ্ঞাতনামা কঙ্কাল ও কাপড় উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত কাপড় দেখে মিলনকে শনাক্ত করেন তাঁর স্বজনেরা। আদালতের নির্দেশে চলতি মাসের ১ জানুয়ারি মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই ঢাকা জেলা।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে, ঘটনার দিন আসামি সুমন ও রনি মিয়া মিলে মিলনের অটোরিকশাটি ভাড়া করে আক্রান বাজার এলাকায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে ফুসলিয়ে আশুলিয়া মডেল টাউনের নির্জন কাশবনে নেওয়া হয়। সেখানে তারা একত্রে গাঁজা সেবন করে এবং একপর্যায়ে মিলনকে গলাটিপে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ কাশবনে ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের জবানবন্দি, তথ্য প্রযুক্তি ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে নগদ টাকার প্রয়োজনে তারা অটোরিক্সা চুরির উদ্দেশ্যে হত্যাকান্ডটি ঘটনায়। মাত্র ৬২ হাজার টাকায় তাঁরা অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেয় এবং ধরা পড়ার হাত থেকে বাঁচতে অটোরিকশার রং পরিবর্তন করে ফেলে। এছাড়ার ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামি সুমন থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যহত আছে।
