সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসায়ীর জায়গা বিএনপিতে হবেনা-ডাঃ সালাউদ্দিন

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ ঢাকা-১৯ এর সাবেক সংসদ সদস্য ডাঃ দেওয়ান মোঃ সালাউদ্দিন বাবু বলেছেন, অনেকেই এলাকায় চাঁদাবাজী, সন্ত্রাসী করে তারা নাকি আমাদের মিছিলেও থাকে। এইসব বাজে করা কোন সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসায়ীর জায়গা বিএনপিতে হবেনা। সোমবার দুপুরে পাথালিয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন কর্তৃক আয়োজিত নারী সমাবেশে উপস্থিত থেকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাউদ্দিন বাবু বলেন, পুলিশকে ফোন করার দরকার নাই, আমিই যথেষ্ট এসব সমস্যা সমাধানের জন্য। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী এবং জুলম অত্যাচার করে আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে। আমরা যদি ভালো কাজ করতে না পারি তাহলে আমাদেরকেও বিদায় নিতে হবে। ১৭ বছর পালিয়ে ছিলাম, ৩ বার জেলে ছিলাম, ৫৩টি মামলা, আর পলাইয়া থাকতে চাইনা। মানুষের সাথে থাকতে চাই, মানুষের ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। এজন্য আমাদের আশেপাশের কেউ যেন চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যে অন্যায় করবে তাকে কিন্তু কোন ছাড় দেয়া হবেনা।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,আমাদের নেতা ১৭ বছর কষ্ট করে দেশে আসছে, এগুলো সেও জানে। অপেক্ষা করেন সে এমন কঠিন ব্যবস্থা করবে, প্রত্যেক এলাকায় আমাদেরকে দায়িত্ব দিবে, আমাদেরও চাকরী থাকবেনা। আপনারাতো ভোট দিবেন, দলের একটা চাকুরিও আছে, ওইটা কিন্তু থাকবেনা যদি এইসব অপকর্ম আমরা বন্ধ করতে না পারি। এলাকায় মাদকের কোন ব্যবসা থাকবেনা। আমি একশ দিন সময় নিবো, এর মধ্যে যারা মাদকের সাথে জড়িত, আমি পুলিশের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তাদের সহযোগীতায় এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে এলাকার মাদক, সন্ত্রাস এবং চাঁদাবাজদের বুঝিয়ে এসব কাজ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করবো। এমন কোন লোকজন আমাদের স্টেজে থাকবেনা, মিছিলেও থাকবেনা এবং ভবিষ্যতে পদ পদবীও থাকবেনা।

আমরা চাই ১৪ শ ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছে, ২৪ হাজার আহত হয়েছে এদের জীবন এবং আত্মত্যাগ বৃথা যেতে পারেনা। আমি দুইবারের এমপি ছিলাম, সরকরী চাকুরী ছেড়ে আসছি রাজনীতিতে। ১৭ বছর জেল, জুলুম, অত্যাচার সহ্য করে টিকে আছি, এখন যদি কিছু ভালো কাজ না করতে পারি তাহলে এমপি হয়ে আমার লাভ কি? আমিতো এমপি দুইবার হয়ছি, এইবারের এমপি এবং আগের এমপির মধ্যে পার্থক্য কি সেটা ১২ তারিখের পর আপনারা বুঝবেন।

আমি নির্বাচিত হলে এক মাসের মধ্যে আমরা এই যানজট কমিয়ে ফেলবো। আমরা প্রত্যেক জায়গায় ভলান্টিয়ার নিয়োগ করে যাদের পোশাক থাকবে, পুলিশের সাথে লিয়াজো করে তাদের প্রশিক্ষন দিয়ে যেসব পয়েন্টে যানজট হয় সেখানে নিয়োগ করবো। সাভার বাজার বাসষ্ট্যান্ডে মহাসড়ক এবং ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করছে, মহিলারা রাস্তা দিয়ে হাটতে পারেনা, মার্কেটগুলো ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। ফুটপাতে একটি লাইন থাকতে পারে তাই বলে ৫টি লাইন দিয়ে আবার টাকা তুলবেন, সেই বদনাম দলের উপর আসবে, কোন সিন্ডিকেট থাকবেনা। কেউ বাড়ি করতে গেলে চাঁদা দিতে হবে, ইট-বালুর কাজ দিতে হবে, আওয়ামী লীগ যা করেছে সেটা করা যাবেনা।

নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা বিধবা ভাতা পান, মাতৃত্বকালীন ভাতা পান এবং টিসিবির কার্ড পান সেগুলোর সংখ্যা অত্যন্ত কম। আমরা ক্ষমতায় গেলে এসবের সংখ্যা বাড়াবো। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সহযোগীতা করা হবে। আয়োজিত অনুষ্ঠানে পাথালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ আব্দুস সোবহানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাভার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেওয়ান মইনুদ্দিন বিপ্লব, পাথালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ জহিরুল ইসলাম, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ আমিনুর রহমান প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!