কারখানায় ভাঙচুর লুটপাটের মামলায় গ্রেপ্তার ২৩, চাকরিচ্যুত ৬৯

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ সাভারে বকেয়া বেতনের দাবিতে একটি তৈরী পোশাক কারখানায় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২৩ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সাতজন নারী শ্রমিক রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী। এর আগে সকালে সাভার পৌর এলাকার মজিদপুরসহ বিভিন্ন মহল্লায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিকরা হলেন, মোঃ সিয়াম প্রামানিক (৩৩), মোঃ আলাল শেখ (৩৬), মোঃ আব্দুল মমিন (৩৪), মোঃ ইমন (৩০), মিস্টার বিনু সরকার (২৭), ময়না আক্তার (৩১), মোঃ জুলহাস (৩২), মোঃ সুমন (২৩), মোঃ আশিক মিয়া (২৮), মোঃ আব্দুর রহিম মিয়া (৩২), মোঃ সোহরাব মিয়া (৪৭), মোঃ সবুজ মিয়া (৩৯), মোঃ সালামুন (২৯), লাবনী (৩৮), সাবিনা আক্তার (৪৪), রেশমা (৩৩), মোঃ রবিউল ইসলাম (২৯), মোসাঃ মৌসুমী খাতুন (৩০), মোঃ সারোয়ার (৫১), মোঃ সুজন মিয়া (৩৫), তাজ নাহার আক্তার (৩২), মোঃ মানিক (৩৩) ও স্মৃতি বেগম (৩৮)। তারা সকলেই সাভারের দিলকুশাবাগা এলাকার আজিম গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক।

কারখানার শ্রমিক ও থানা পুলিশ জানায়, সাভার পৌর এলাকার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বিরুলিয়া রোডের আজিম গ্রুপের গ্লোবাল ফ্যাশন গামের্ন্টস লিমিটেড ও গ্লোবাল আউটার ওয়্যার লিমিটেড কারখানায় প্রায় চার হাজার শ্রমিক কাজ করেন। গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) প্রতিদিনের মতো কারখানার কার্যক্রম শুরু হলে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শরীফুল ইসলাম ও রুমা আক্তারের নেতৃত্বে অন্য শ্রমিকরা কর্মস্থলের কার্যক্রম ব্যাহত করে বহিরাগতদের ইন্ধনে ১১ তলা ভবনের সামনে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করে। এসময় তারা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ভাঙচুর করে ব্যাপক ক্ষতি সাধন ও নগদ টাকা লুট করে।
এ ঘটনায় বুধবার রাতে কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সোহেল রানা বাদী হয়ে ৮৭ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরো ২০০-২৫০ জন শ্রমিকের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ওই রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে অভিযান চালিয়ে ২৩ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে।
ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ, বকেয়া বেতন দাবি করায় মিথ্যা অভিযোগে চাকরি থেকে তাদেরকে ছাঁটাই করা হয়েছে এবং সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার করে হয়রানি করা হচ্ছে। শ্রমিকরা জানায়, প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে বেতন দেয়ার কথা থাকলেও তা নিয়মিত দেয়া হয় না, এমনকি বাৎসরিক ছুটির টাকাও পরিশোধ করা হয় না। বেতন ও ছুটির টাকা নিয়মিত দেয়ার জন্য শ্রমিকদের পক্ষ থেকে দাবি করলে ৬৯ জন শ্রমিককে ছাঁটাই এবং আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ভাংচুরের মিথ্যা মামলা দেয়া হয়। ওই মামলায় পুলিশ ৩০ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে। তবে কে বা কারা ভাংচুর করেছে, আমরা কিছুই জানিনা।
বাংলাশে গামের্ন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় আটক শ্রমিকদের দ্রুত নিঃশর্ত মুক্তি এবং চাকরি ছাটাইকৃতদেরকে চাকুরিতে পূর্ণবহালের পাশাপাশি শ্রমিকদের সকল বকেয়া পাওনা পরিশোধেরও দাবি জানান।

ভাংচুর ও লুটপাটের মামলার বাদি ও কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সোহেল রানা বলেন, ‘কারখানা ভাঙচুরের ঘটনায় শ্রমিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ভাঙচুরের পাশাপাশি কারখানা থেকে ৯০ লক্ষ ৯৩ হাজার ৭৩০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন মালামাল এবং নগদ ১৫ লক্ষ টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এছাড়া ভাঙচুরের ফলে কারখানার আনুমানিক ২ কোটি ৬০ লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।

সাভার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী বলেন, কারখানা ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মালিক পক্ষের দায়ের করা মামলায় ৭ নারীসহ ২৩ জন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে তাঁদের ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!