সাভারে বিএনপি নেতার বাড়িতে অবৈধ গ্যাস, দুই লক্ষ টাকা জরিমানা

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ সাভারের কলমা এলাকায় বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা ও তার ভাই আরশাদ আলীর বাড়িতে অভিযান চালিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। এসময় পৃথক দুটি ওয়াশিং কারখানায় অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করায় সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ অবৈধ রাইজার খুলে নেয় তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী। এঘটনায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে কারখানাটি দুটিকে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য এবং আদায় করা হয়েছে।
রবিবার দুপুরে সাভার সদর ইউনিয়নের ২ নং কলমা এলাকায় সাভার থানা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা ও তার ভাই আরশাদ আলীর বাড়িতে ভাড়া দেয়া রোটনাইস ওয়াশিং কারখানায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন রায়।

তিতাস কর্তৃপক্ষ জানায়, বিএনপি নেতা হওয়ায় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা এবং তার ভাই আরশাদ আলী দীর্ঘদিন ধরে বাসাবাড়ি এবং কারখানায় অবৈধ গ্যাস ব্যবহার করে আসছে। এর আগেও একাধিকবার তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে পুনরায় আবারও অবৈধভাবে সংযোগ দিয়ে গ্যাস ব্যবহার করে আসছিলো। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার দুপুরে বিএনপি নেতার ভাই আরশাদ আলীর বাড়িতে নেয়া অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরনে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় আরশাদ আলীর বাড়ির ভিতরে পাকা ট্যাংকির মধ্যে লুকানো অবস্থায় অবৈধ একটি রাইজার পাওয়া যায়। পরে রাইজারটি জব্দসহ অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।

এদিকে অভিযানের খবর পেয়ে আরশাদ আলী বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। পরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহারের বিষয়ে তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহারের কথা স্বীকার করেন। এসময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে আরশাদ আলীর স্ত্রীকে মহিলা পুলিশ দিয়ে গাড়িতে তোলা হয় এবং অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করায় ১ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য করেন এবং অনাদায়ে ৭ দিনের বিনাশ্রম কাড়াদন্ড প্রদান করেন।

বিষয়টি জানতে পেয়ে বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফার আরেক ভাই শহীদুল ইসলাম মুঠোফোনে রোটনাইস কারখানার মালিক মাসুদুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে কথা বলে বিষয়টি ম্যানেজ করার কথা বলেন। পরে মাসুদুর রহমান আরশাদ আলীকে ফোন করে ডেকে নিয়ে আসেন এবং নিজেদের ভূল স্বীকার করে করজোরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এসময় ভ্রাম্যামান আদালতের নেতৃত্ব প্রদানকারী জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন রায় অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার এবং ভবিষ্যতে এধরনের অপরাধ না করার শর্তে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় এবং মুচলেকা নিয়ে আরশাদ আলীর স্ত্রীকে ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে পাশর্^বর্তী আরও একটি ওয়াশিং কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরন অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিল্টন রায় বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গোপনে অবৈধ সংযোগ নিয়ে বাসাবাড়ি এবং কারখানায় ব্যবহার করায় দুটি ওয়াশিং কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে দুই লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশের এই সম্পদ রক্ষায় এবং অবৈধ গ্যাস চুরি ঠেকাতে এ ধরনে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

দিনব্যাপী পরিচালিত অভিযানে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সাভার জোনাল অফিসের ডিজিএম আব্দুল্লাহ হাসান আল-মামুন, কয়েকজন প্রকৌশলীসহ তিতাসের কারীগরি টিমের সদস্য ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!