১১ দলীয় জোটের প্রার্থী পরিবর্তন ঘিরে বিতর্ক, বিএনপি’র জয় নিশ্চিত

সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধিঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে চলছে ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনা। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে চায়ের দোকানের সাধারন মানুষ, শ্রমজীবি, পেশাজীবি এমনকি সংবাদ কর্মীদের মাঝেও শুরু হয়েছে নানা বিতর্ক। এর আগে নির্বাচনকে ঘিরে নানা হিসাব-নিকাশের পর দলীয় মনোনয়ন পেয়ে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীরা পথসভা থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দেন। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর আচরণবিধির বিষয়টি মাথায় রেখে বর্তমানে তাঁরা দোয়া মাহফিল, পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে মতবিনিময় ও সামাজিক অনুষ্ঠানের মোড়কে গণসংযোগ করছেন।

তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট একযোগে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলে আসন বণ্টন ও নীতিগত মতপার্থক্য নিয়ে বেশকিছুদিন ধরেই জোটের ভেতরে টানাপোড়েন চলছিল। চুড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগে একাধিক দফা বৈঠক হলেও ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় বারবার সময় পিছিয়ে যায়। এরই মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ একাধিক দল জোট থেকে সরে যাওয়ার খবরও গণমাধ্যমে আসে।

সবশেষ বৃহস্পতিবার ১১ দলীয় জোট আনুষ্ঠানিকভাবে বিভিন্ন আসনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। যেখানে ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) সংসদীয় আসনে এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুলকে জোটপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে এখানে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মাওলানা আফজাল হোসাইনের নাম শোনা গেছে।

এদিকে নতুন করে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষনাকে কেন্দ্র করে ভোটার ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা বিতর্ক। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী কিংবা ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও মাঠপর্যায়ের জামায়াত-শিবিরের সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াত ও শিবির কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মাওলানা আফজাল হোসাইন ব্যাপক জনপ্রিয় ব্যক্তি। আসন্ন নির্বাচনে তার বিজয়ের সম্ভাবনা ছিলো এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাঠে কাজ করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থীর পরিবর্তে এই আসনে এনসিপির প্রার্থী দেয়াটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।

অন্যদিকে প্রার্থী পরিবর্তনের কারনে পাল্টে গেছে ভোটের সমীকরণ ও হিসাব নিকাশ। এ আসনে এতদিন মনে করা হচ্ছিল বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মধ্যে মূল ভোটযুদ্ধ হবে। কিন্তু জামায়াত জোটের প্রার্থী পরিবর্তন হওয়ায় বিএনপি মনোনীত ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর জয় একরকম নিশ্চিত হয়ে গেছে বলে মনে করছে সর্বস্তরের মানুষ।

জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাওলানা আফজাল হোসাইন এই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় ছিলেন এবং তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাদের দাবি, আসন্ন নির্বাচনে তার বিজয়ের সম্ভাবনাও ছিল উল্লেখযোগ্য। এমন বাস্তবতায় হঠাৎ করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পরিবর্তন করে অন্য দলের প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া অযৌক্তিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত। এতে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে হতাশা ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলেও মনে করেন তারা।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুলকে ১১ দলীয় জোটের মনোনয়ন দেয়াকে ভালোভাবে নেয়নি জামায়াত ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটাররা। এঘটনায় অসন্তুষ্ট ও ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ার পাশাপাশি ভোটাররা নীরব ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রার্থী পরিবর্তন নিয়ে চলমান এ বিতর্ক আগামী দিনে ১১ দলীয় জোটের সাংগঠনিক ঐক্য ও নির্বাচনী কৌশলে কী প্রভাব ফেলবে এখন তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে একজন লিখেছেনে সাভারের মাটিতে আওয়ামী লীগের পুনর্মাসনকারী প্রার্থী জনগণ মেনে নিবে না, আমরা জুলাইয়ে শক্তি নিয়ে বাঁচতে চাই জুলাইয়ে শক্তি নিয়ে সাভারের জনগণ বাঁচতে চায় আওয়ামী লীগের দালালী করে এমন কেউ সাভারের মাটিতে নির্বাচন করবে সাভার বাসি কখনো মেনে নিবে না।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পূর্বঘোষিত প্রার্থী মাওলানা আফজাল হোসাইনের প্রতিক্রিয়া জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!