
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সাভারে ত্রয়োদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচার-প্রচরণায় বাঁধা প্রদানসহ হুমকি প্রদানের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এনসিপি ও জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের (ঢাকা-১৯) আসনের প্রার্থী দিলশানা পারুল। বুধবার বিকেলে সাভার থানা রোডের মুক্তির মোড়ে অবস্থিত লন্ডনাস রেস্টুরেন্টে সাভার-আশুলিয়ার ভাবনা নিয়ে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
দিলশানা পারুল অভিযোগ করেন, গত দুদিন আগে জামায়াতের মহিলা শাখা ও ছাত্রী সংস্থার নেত্রীদের সাথে আমার মতবিনিময় হয়েছে। তারা আমাকে অভিযোগ করেছেন প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে আমাদের মাঠ পর্যায়ে আমাদের ছাত্রী সংস্থার নেতাকর্মীরা বাঁধার সম্মুখিন হচ্ছেনা। তাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি ও জায়গায় জায়গা অপমান অপদস্থ করা হচ্ছে, এটা বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা যারা পেশী শক্তির রাজনীতি করিনা, ক্ষমতার রাজনীতি করিনা এবং অর্থের রাজনীতি করিনা, সেক্ষেত্রে আমাদের উপর সরকারের নির্বাচনী যে নীতিমালা চাপিয়ে দেয়া হয় সেই নীতিমালাগুলো প্রতিপক্ষ ধানের শীষের প্রার্থী ডাঃ দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু মানছেনা। আজকে সকালেও তারা একটি স্কুল প্রাঙ্গনে প্রোগ্রাম করেছে এই ভায়োলেশনগুলো বন্ধ করতে হবে। আচরন বিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে প্রশাসনকে আরও নজরদারী বাড়াতে হবে।

নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করে তিনি বলেন, আমরা আশা করছি তারা সবসময় নিরপেক্ষ থাকবে, কোন একদিকে তারা ঝুঁকে পড়বেনা। যে ধরনের প্রোপাগান্ডা, প্রচার-প্রচারণা আমাদের কানে আসছে তাতে কিন্তু আমরা সন্তুষ্ট না। যদি কোন ধরনের কারচুপি কিংবা বাঁধা বিঘেœ সম্ভাবনা থাকে তাহলে আমরা আমাদের ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আমাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে এবার রাজনৈতির ময়দানে, নির্বাচনের ময়দানে কোন ধরনের বা যে কোন ধরনের ম্যাল প্র্যাকটিস আমরা কিন্তু রুখে দিবো। সবার উদ্দেশ্যে আমরা বলে দিচ্ছি যে, সাভার-আশুলিয়ার আসনে কিন্তু অন্যান্যবার যেভাবে যা ভাবছেন সেভাবে এবারের নির্বাচন হবেনা। এবারের নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠু, এবারের নির্বাচন হতে হবে জনগনের ইচ্ছায়, জনগন যাতে ভোট দিতে পারে সেটা সরকারকে নিশ্চিত করেত হবে এবং ভোটদানের পর ব্যালটের ভোট গননায় যাতে কোন ধরনের ব্যত্যয় না ঘটে সেটাও সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। কোন একদ দল বা কোন একক গোষ্ঠী যাতে এটা ভেবে না নেয়, যে ক্ষমতা কিংবা টাকার জোরে ফলাফল তাদের দিকে ঘুরিয়ে নিবে।
নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করে প্রতিপক্ষের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা সাবধান হয়ে যান, আমরা হুমকি দিতে চাই এই ধরনের ভাষা আমি ব্যবহার করছিনা, এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করাটাকে এই মুহুর্তে প্রয়োজনীয় মনে করছিনা। তার মানে এই না, যে আমাদের এই নরম ভাষাটা এবং বিনয় সম্বলিত আচরন এই পর্যায়ে থাকবে। আমরা বিনয়ের সাথে সুস্পষ্টভাবে আপনাদের মাধ্যমে সাভার-আশুলিয়াতে নির্বাচনের সাথে যারা সংশ্লিষ্ট আছেন প্রতিটি রাজনৈতিক দল এবং সরকারের প্রত্যেকটি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই কথাটি সুনির্দিষ্ট করে জানিয়ে দিতে চাই।

নির্বাচনী ইশতিহার এবং প্রতিশ্রুতির বিষয়ে দিলশানা পারুল বলেন, সাভার-আশুলিয়ায় রাস্তার পাশে যেসব ডাম্পিং জোন রয়েছে, ময়লা দুর্গন্ধ ছড়ানো এসব ডাম্পিং জোন সরাতে হবে। আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, জিরাবো-কাঠগড়া সড়কসহ সাভার-আশুলিয়ার প্রত্যেকটি রাস্তা সংস্কার করতে হবে। শিল্প অধ্যুষিত এলাকার বেশীরভাগ ভোটার শ্রমিক শ্রেনীর তাই এই এলাকাকে শ্রমিক এবং শিল্প-ব্যবসা বান্ধব এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য একটি বিশেষ প্রস্তাবনা থাকবে। শ্রমজীবি নারীদের সন্তানদের জন্য ডে-কেয়ার ব্যবস্থা, শ্রমিকদের জন্য একটি সরকারী হাসপাতাল নির্মানসহ নারীদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া, সাভারের নদীগুলোকে দুষনমুক্ত করার পাশাপাশি নদীর পারগুলোতে হাটাচলা এবং বিনোদনের জন্য র্পাক তৈরী করা।
দিলশানা পারুল আরও বলেন, ১১ দলীয় জোটের সমর্থনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে আমি জোটের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে ব্যাপক সহযোগীতা পাচ্ছি। শুধু দল হিসেবেই আমরা তরুণ তা নয় বয়সের দিক থেকেও আমরা তাদের চেয়ে তরুন। তাই ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য দলের যেসব অভিজ্ঞ এবং বুজুর্গ ব্যক্তি, রাজনীতিক অঙ্গনে অনেক অভিজ্ঞ এবং আঞ্চলিক রাজীনিতিতে দীর্ঘ চলার পথ। তারা আমাকে জ্ঞ্যান দিয়ে সহযোগিতা করছে, জামায়াত ইসলাম এবং খেলাফত মজলিশসহ অন্যানের দলের যে সাংগঠনিক কাঠামো তা দিয়ে আমাকে সর্বোচ্ছ সহযোগিতা করছে যাতে আমরা ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে আমরা ব্যালট বিপ্লব ঘটাতে পারি।
আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে ১১ দলীয় জোটের শীরকদল খেলাফত মজলিস, জামায়াত ইসলামী ও এনসিপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
